বিশাল এক সাগরের মাঝখানে কাউকে ছেড়ে দিলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যেন যে কোন কুল-কিনারা খুজে না পায় পড়া শুনাটা থিক তেমন বিশাল এক মহা-সাগর যার কুল-কিনারা খুজে পাওয়া দ্বায় । তবে যে একবার এর কিনারা খুজে যে যেন ছাড়তে নারাজ। এর কিনারা উৎঘতনে আনন্দ পায়।
যেমন ধরুন বাংলা সাহিতের যুগ ধরা হয় ৩ টা
১। আদি যুগ / প্রাচীন যুগ
২। মধ্য যুগ ও
৩। আধুনিক যুগ।
ভাল কথা, এই আদি যুগ / প্রাচীন যুগ শুরু হয় ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। এই যুগের ১৯০৭ সালে ডক্টর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রহন্থগার থেকে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় একটি পুথি পেল যাকে বলে চর্যাপদ আরও দুইটি বই পায় যা হলো ডাকর্নব ও দহাকোষ। তিনি পরবর্তীতে এই গুলো হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোঁহা নামে প্রকাশ করে। ওই যুগেই ব্রাহ্মীর জন্ম হয় যা ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে শ্রী রামপুর মিশনে স্থাপিত হয় পরবর্তীতে নানা প্ররিবর্তন করে বাংলা লিপি হয়।
এখন আসি মধ্য যুগের কথায়। এই যুগের স্থায়ী ছিল ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত । মধ্য যুগের শুরুর দিকে তেমন কোন বাংলা সহিতের অবকাশ ঘটেনি এই যুগকে তাই অন্ধকারের যুগ বলে তবে এই যুগে ভাষা গঠন হয়েছে এই যুগে তুর্কিদের শাসন ছিল ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এই তুর্কি শাসন আমলে রামাই পণ্ডিত ধর্ম পূজার শাস্ত্রগ্রন্থ শূন্যপুরাণ আর গদ্য-পদ্য মিশ্রিত চম্পূকাব্য রাচনা করেন। নিরঞ্জন করেন রুম্পা কাব্য। এর পরবর্তীতে ১৩৫১ খ্রিষ্টাব্দে পাঠান সুলতানগণ শাসন শুরু করে তাদের শাসন চলে ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত । সেই সময়কালকে সুলতানি যুগ বলে। সেই সময়কে ড. দিনেশ্ চন্দ্র সেন গৌড়ীয় যুগ বলে। তখন সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ এর পৃষ্ঠপোষকতায় জৈনদ্দিন তার রসুল বিজয় কাব্য আর আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় বিপ্রদাস পিপিলাই মনসা বিজয় কাব্য রচনা করেন। তারপর শুরু হয় মোগল যুগ ১৫৭৬ থেকে শুরু করে মধ্য যুগের শেষ ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। অন্য দিকে আবার মধ্য যুগে শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বড়ু চণ্ডীদাস রচিত শ্রী কৃষ্ণ কীর্তন কাব্য পুথিটি ১৯০৯ সালে বসন্ত রঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাকুড়া জেলার কাকিলা গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর পুথিটি উদ্ধার করে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ করেন।

0 Comments