আরে বিয়াই আসেন আসেন চা খাই, এই যে বিয়াই আজ কিন্তু চা আমি খাওয়াবো। ধুর মাসাই কি যে, বলেন না আমি ডাকলাম চা খাইতে আর আপনি খাওয়াবেন সেটা কি হয়। হাহাহা। ছোট পুত্রি দেখি আজ বাজারে এসেছে। আরে বলেন না আমার এই মেয়েটা না আমার সাথেই থাকতেই পছন্দ করে। ঠিক আপনার ছোট ছেলের মতো। এই ভাবে আমি নিলয় আর অয়ন্তিকা দুই জনেই হাঁটতে শিখেছি থেকে বাবার সাথে বাজারে আসি। তখন থেকে আমরা একে অপরকে খুব ভালো করে জানি। আমার বড় বোন নীলিমা আর অয়ন্তিকার বড় ভাই আশিক ভাই দুজনের বিয়ে দেওয়ার কথা ঠিক হয় । আমার বাবা ও অয়ন্তিকার বাবা দুই জনেই বিয়ের আগেই আগেই। ভাবছেন এটা কেমন কথা আরে না। মানে আমাদের দুই বাবাই খুব ভালো বন্ধু তারা ঠিক করে রাখে যে তাদের সন্তানের বিয়ে দিবে। আর ভাগ্যের মিল দেখেন একজনের বড় বোন তো আর একজনের ছেলে। আমি তখন ক্লাস থ্রী অয়ন্তিকা ক্লাস টু আর অন্য দিকে দিদি আর আশিক ভাই দুজনেই ক্লাস সেভেন এ পারেন। ওরা যদিও বন্ধু তারপরও বেস্ট ফ্রেন্ড হতে পরে নি ওদের মধ্যে দুরত্ব বেশিই ছিল। যদিও ওরা জানত ওদের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। যাই হোক এই পার্ট পুরো ভাইয়া ও আপুকে নিয়ে তো ভালো হয় আপুই যদি কথা গুলো বলে তাতে অনেক গোপন কথা বেরিয়ে আসবে। আপু:- নিলয় আমাদের মধ্যে কোনো গোপন কথা নেই আর সেটা তুই ভালো করে জানিস।
আমি:- আচ্ছা আপু ভুল হয়ে গেছে এখন বলো।
ঠিক আছে ...
আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন থেকেই আমি অন্তুর প্রতি দূর্বল দুর্বল কাজ করতো।
আমরা দুই জনেই খুব ভালো student একজন আর একজনকে সাহায্য করতাম। দুজনে মিলে অন্য স্টুডেন্টকে হেল্প করতাম। দুজনে খুব ক্লোজ ছিলাম পরে five পাস করে সিক্স এ একই school এ ভর্তি হলাম একজন আর একজনের প্রতি বেশ দুর্বল হয়ে পড়লাম। তখনও প্রেম কি জিনিষ আমরা বুঝতাম না। সেভেন এ উটে অন্তু একদিন আমাকে বললো তুই জানিস আশিক আর নীলা কি করে আমি বললাম কই না। ওরাও তো আমাদের মতো ক্লোজ বন্ধু। আরে না ওরা নাকি প্রেম করে। আমি বললাম প্রেম কি রে। দুই জন দুই জনকে নাকি বিয়ে করবে। ছি বাজে কথা তুই কই থেকে শুনিস। আসলে আশিক কিন্টার গার্ডেন এ পারতো থানার শহরের স্কুল। তাই স্মার্ট ছিল আমি তো বোকা ছিলাম। কিছু দিন যেতে না যেতেই meximum স্টুডেন্ট প্রেম করা শুরু করলো। 6 মাসের পরীক্ষার পর অন্তু বললো দেখতো তিথি কি বলে ? আমি কি বলে? আমরা নাকি প্রেম করছি। তুই কি বলছিস ? অন্তু বললো আমি বললাম আমরা ভালো বন্ধু তখন তিথি বললো যদি প্রেম না করিস তাহলে আমার সাথে প্রেম করিস না কেনো। চল তিথির কাছে। ওই তিথি আমি আর অন্তু প্রেম করছি। আমরা বিয়ে করবো তাতে তোর বাপের কি। তোর অত মাথা ব্যাথা কিসের। আমি অন্তু র হাত ধরে ক্লাসে টেনে নিয়ে গেলাম। অন্তু বললো নীলিমা সত্যি করে বলতো আমরা প্রেম করছি।
--- তোর কি মনে হয়।
--- আমি কিন্তু তোকে ভালোবাসি। তোকে বলতে চাই কিন্তু যদি তুই আমাকে ভুল বুঝিস।
--- আমিও।
সেদিন থেকে আমাদের মধ্যে আরো ক্লোজ শুরু হলো। অন্তু বাদাম আনে আমার জন্য। দুজনে টিফিন ভাগ করে খাওয়া শুরু করলাম। Class seven এ আমরা আরো ভালো প্রেম বুঝতে শিখলাম স্কুল শেষে একসাথে বাসায় ফিরতাম। ঘুরতে যাই। এইভাবে শুরু হলো। পরে একদিন মা আমাকে বললো ভালো করে চলাফেরা করিস। তোর তো বিয়ে ঠিক করে রেখেছে। আমি শুধু এতটুকুই জানি। কোথায় কার সাথে এসব কিছুই আমি জানি না। এই ভাবেই কলেজ এ উটলাম সে কি মজা তোকে বুঝাতে পারব না।
আচ্ছা দিদি তার পরে... যখন আমি অর্নাস এ ভর্তি হলাম কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ।। অন্তু তখন ডিগ্রি ভর্তি হলো রাজারহাটে। আমাদের তখনও relation চলছে। কিন্তু বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া শুরু করলো আশিক এর সাথে কথা বলার জন্য। আশিক তখন রংপুর কারমাইকেল কলেজে পড়ে। সে আমাকে দুই দিন পর ফোন দিতে লাগলো তখন আমার সব থেকে বিরক্তি লাগতো। আমি অন্তুকে বিষয়টা বললাম। পরে থেকে অন্তু আমাকে আশিক এর ব্যাপারে খোটা দেওয়া শুরু করলো। ও মনে করলো আমি আবার আশিক আর সাথে প্রেম শুরু করছি। এক বছর হয়ে গেলো। ঐদিকে অন্তু ফ্যামিলি problem এর কারণে পড়াশুনা বাদ দিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি নিল। তারপর কি তোমাদের ব্রেক আপ হয়ে গেলো?
ধুর কাল আমার বিয়ে আর তুই আজ আসিস আমার প্রেম এর গল্প শুনতে ভালো লাগে না ঘুম পাচ্ছে। আচ্ছা চা খাবে তো ঠিক আছে। খেয়ে বলো।
আচ্ছা আন খেয়ে বলছি।......
Next

0 Comments